জেশ্চার ড্রইং

By Syed rashad imam tanmoy

স্টেপ ১। লাইন অফ অ্যাকশনঃ
মাঝে মাঝে অনেকেই জিজ্ঞাস করেন যে কিভাবে জেশ্চার ড্রইং এর প্রাক্টিস শুরু করা যেতে পারে? আমার কাছে মনে হয়, লাইন অফ একশন বা ক্রিয়া রেখা (বাংলাটা মাত্র বানালাম) জেশ্চার ড্রইং এর ফার্স্ট স্টেপ হতে পারে।

একশন লাইন হচ্ছে যে একটি লাইন টেনে সামনে থাকা মানুষটির কাজ বা একটিভিটিটা সবচেয়ে ভালো ভাবে বোঝানো যায়। এই প্রাক্টিস্টার গোল হচ্ছে সরলিকরন বা সিমপ্লিফিকেশন। মানব শরীরের জটিল জটিল ভঙ্গি গুলাকে কিভাবে আমরা সহ্জে একটা লাইনে আনতে পারি, সেটাই প্রধানত লাইন অফ একশন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবার আঁকা শুরু করার আগে ২ টা প্রশ্ন করা যেতে পারে নিজেকে।

১। এই পোজটার প্রধান উদ্দেশ্য কি? (উদাহরন চা খাওয়া, ঘড়ি দেখা কিংবা দৌড়ানো)

২। কিভাবে আমি একটা লাইনে সবচেয়ে বেশী ও সবচেয়ে সহজে এই পোজটা কে প্রকাশ করবো ?

এখানে আমি আমার নিজের প্র্যাক্টিস করা কিছু একশন লাইনের ছবি দিলাম। এগুলো দেখে ব্যাপারটা আরো সহজে বোঝা যেতে পারে।

ইউটিউবে বেয়াম/ ইয়োগার ভিডিও দেখে কিংবা নিজের সবচেয়ে পছন্দের মুভি, ছবি কিংবা পেইন্টিং দেখে এই একশন লাইনের প্রাক্টিস শুরু করা যেতে পারে।

স্টেপ ২। শেইপ ড্রইং বা সিলুয়েট ড্রইংঃ

একশন লাইন প্রাকটিসের পর জেশ্চার ড্রইং শেখার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্টেপ হচ্ছে শেইপ ড্রইং। এর আগের স্টেপে মানুষের ভঙ্গি গুলো যেমন একটা লাইনে এক্সপ্রেস করার চেষ্টা করেছি, এবার চেষ্টা টা করবো ভঙ্গি গুলাকে এক একটা শেইপ বা সিলুয়েট ফর্মে আঁকার মধ্য দিয়ে।

এবার ঠিক আগেরবারের মত একই প্রশ্ন দুইটা আমরা আমাদের সামনের মানুষ বা ছবি টাকে করিঃ

১। এই পোজটার প্রধান উদ্দেশ্য কি? (উদাহরন চা খাওয়া, বলিং করা কিংবা লাফ দেয়া)

২। কিভাবে আমি একটা শেপ এঁকে ও সবচেয়ে সহজে এই পোজটা কে প্রকাশ করবো ?

অনেক সময় আঁকতে গেলে দেখা যাবে হয়তো একশন লাইনটা কনটিনিউ হয়েই শেইপটা কমপ্লিট হচ্ছে।

এই প্রাকটিসের মুখ্য উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে কোন রকম ডিটেইলে না গিয়ে শুধু শেইপ টা আঁকার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা যে মানুষটা কি করছে।

অনেক সময় হয়তো মানুষ বা ছবির পজিশনের কারনে শেইপ টা আকলে বোঝা যাবে না মানুষটা কি করছে, বাট ওইটার সমাধান পরে করা যাবে। আপাতত এই প্রাকটিসটাই চলবে।

 

যখন জেশ্চার ড্রয়িং, শেইপ ড্রয়িং করছি তখন ডিটেল আঁকা্র চিন্তা বাদ দিতে হবে।(যেমন চোখ, মুখ , ঘাড়, পেট, হাত পা এগুলোকে আলাদা আলদা চিন্তা না করে একটু দূর থেকে মানুষটার ওভারঅল ভঙ্গিটা কিরম সেই শেইপটা আঁকার চেষ্টা করতে হবে।) অনেকটা আলোর বীপরিতে সিলুয়েড বা মানুষের ছায়া পরলে যেমন, আমাদের এই প্রাক্টিস টা সেরকম হবে।

ছবি ১

শেইপ ড্রইং এর ক্ষেত্রে,
প্রথম ছবিটায় (পতাকা হাতে যে ছেলেটা দৌড়াচ্ছে), ছেলেটার শেইপটা একটা বাঁকা ত্রিভুজের মত করে এঁকেছি, এতে ওর গতীটা বোঝা যাচ্ছে। পরবর্তীতে ওই ত্রিভুজের মত শেইপটার এঙ্গেল মেইন্টেইন করেই ছেলেটার ফর্ম বা সিলুয়েট টা আঁকা হয়েছে।

এই পদ্ধতীটা ব্যাবহার করে প্রথমে সাব্জেক্টের একদম বেসিক শেইপ্টা যেটা দেখা যাচ্ছে সেটাকে এঁকে তারপর সেটাকে আরেকটু ভেঙ্গে মানুষটা কি করছে সে ব্যাপারটা বের করে আনা যেতে পারে।

ছবি ২