কমিউনিটি

তুমি কি কমিক্স আঁকতে চাও? কার্টুন আঁকতে ভালোবাসো?কিন্তু ঠিক কোথায় শুরু করবে বুঝতে পারছো না?কার্টুন পিপল হচ্ছে বাংলাদেশের কার্টুন, কমিক্স আঁকিয়েদের একটি দল। আমরা প্রায় এক দশক ধরে আমাদের দেশের কার্টুনিস্ট ও কমিক্স আর্টিস্টদের অনুপ্রাণিত করতে বিভিন্ন ফেস্টিভাল, এক্সিবিশন এবং কম্পিটিশনের আয়োজন করে থাকি। আমাদের বিভিন্ন অফলাইন/অনলাইন কার্যক্রম যেমন স্কেচবুক স্যাটারডে, DCDC চ্যালেঞ্জ, ৪ পাতার কমিক্স চ্যালেঞ্জ ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তুমিও শুরু করে দিতে পারো তোমার আর্টিস্টিক জার্নি।

এছাড়াও প্রতি বছর আমাদের উৎসবগুলোতে থাকে লাইভ ক্যারিকেচার সেশন, কমিক্স নিয়ে আড্ডা ও আলোচনা, ক্যারেক্টার ডিজাইন, কমিক্স প্রদর্শনী এবং আরও অনেক কিছু।এই কমিউনিটিতে যুক্ত হয়ে খুঁজে নাও তোমার কমিক্স আর্টিস্ট হয়ে ওঠার দিকনির্দেশনা। আমাদের কমিউনিটি জয়েন করতে প্রতি শনিবারের ফ্রি লাইভ স্কেচবুক স্যাটারডে সেশনে সরাসরি এসে অংশগ্রহণ করো, আর চলমান কম্পিটিশনগুলোতে অংশ নিয়ে তোমার কাজ পরিচিত করাও সবার সঙ্গে।গত এক দশক ধরে কার্টুন পিপল বাংলাদেশের নানা প্রান্তে তোমার মতো ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং-এ আগ্রহী মানুষদের উৎসাহ দিয়ে আসছে। আর এবার হয়তো তোমার সময়।বাংলা কার্টুন ও কমিক্সের দুনিয়ায় তোমাকে স্বাগতম। 💛✏️

স্কেচবুক সাটারডে (sketchbooksaturday)

স্কেচবুক স্যাটারডে হলো কার্টুন পিপলের একটি নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে প্রতি শনিবার ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঠিক বিকাল ৩টায় কার্টুন ও কমিক্সপ্রেমীরা একসাথে হয়ে জেশ্চার ড্রয়িং প্র্যাকটিস করে।Gesture Drawing মানে আশেপাশের লোকজনের অঙ্গভঙ্গি, হাঁটাচলা, কথাবলা ইত্যাদি অবজার্ভ করে তা স্কেচ খাতায় আঁকা। আমরা বিশ্বাস করি, একজন আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নিজের পারিপার্শ্বিক সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব একটি আঁকার ভাষা তৈরি করা খুব জরুরি, যা এই স্কেচবুক স্যাটারডের মাধ্যমে একজন নবীন শিল্পীকে পুরোদস্তুর কমিকবুক আর্টিস্ট হয়ে ওঠার পথে সহায়তা করে।

প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের ফেসবুক পেজ/ গ্রুপ এবং ইন্সটাগ্রামে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় পরবর্তী শনিবার কখন ও কোথায় আমরা সবাই একত্রিত হবো। সে অনুযায়ী শনিবার দিন আমরা সকলে পোস্টে বর্ণিত নির্দিষ্ট এলাকায় একত্রিত হয়ে দল বেঁধে চারপাশের পরিবেশ, মানুষ ও মানুষের অঙ্গভঙ্গি স্কেচবুকে এঁকে ফেলার প্র্যাকটিস করি। স্কেচ ওয়াকের এই আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত।স্কেচবুক স্যাটারডে শুধু একটি চলমান কার্টুনিং স্কুল নয়, এটি নতুন ও আগ্রহী আঁকিয়েদের জন্য একটি সংযোগমাধ্যমও। এখানে আমরা সবাই অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত কার্টুনিস্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার ও কথা বলার সুযোগ পাই। প্রতিটি সেশনের শেষে সবাই একসাথে বসে চা ও আড্ডার পাশাপাশি কৌশল ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করি এবং নিজেদের আঁকা নিয়ে আলোচনা করি। তুমি যদি আঁকাআঁকিতে আগ্রহী হও এবং কার্টুন ও কমিক্স শুরু করার জন্য অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা খুঁজে থাকো, তাহলে পরবর্তী শনিবার চলে এসো আমাদের দলে।

৪ পাতার কমিক্স চ্যালেঞ্জ

কমিক্স আঁকতে চাও, কিন্তু সাহস পাচ্ছ না?
গল্প খোঁজা, স্টোরিবোর্ড, পেন্সিলিং, কালারিং—সব মিলিয়ে কাজটা অনেক কঠিন মনে হয়?

তাহলে শুরুটা হোক সহজভাবে, কার্টুন পিপল–এর সাথে!

কমিক্স আঁকার অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্টুন পিপল নিয়মিত আয়োজন করছে —
৪ পাতার কমিক্স চ্যালেঞ্জ

অনেক সময় আমাদের দারুণ সব আঁকার আইডিয়াগুলো বড় গল্প, সময়, সুযোগ কিংবা সাহসের অভাবে বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠে না।
তাই ছোট ছোট অনুগল্প থেকে শুরু হোক কমিক্সের যাত্রা।

মাত্র ৪ পাতার Nano Comics চ্যালেঞ্জ হতে পারে তোমার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কমিক্স স্টাইল ও স্টোরিটেলিং নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার দারুণ সুযোগ।

প্রতিবার দেওয়া থাকবে ৪টি সম্ভাব্য দৃশ্যপট (প্রম্পট)।
সেখান থেকে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে শুরু করে দাও তোমার চার পাতার এক্সপেরিমেন্টাল কমিক্স।

চলমান চ্যালেঞ্জের দৃশ্যপটগুলো জানতে ঘুরে আসো আমাদের ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে।

তুমি কি নিয়মিত কমিক্স আঁকো?
তোমার আঁকা কমিক্স / পোর্টফোলিও আমাদের কাছে পাঠাও:
cartoonpeoplecomics@gmail.com

অনলাইন প্রদর্শনী

কার্টুন পিপল বিশ্বাস করে যে কার্টুন শুধু হাসানোর জন্য নয়, এটা দিয়ে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোও বলা যায়। তাই আমরা একের পর এক অনলাইন চ্যালেঞ্জ আর প্রদর্শনী করে যাচ্ছি—যাতে শিল্পীরা তাদের কলম দিয়ে বড় বড় বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।যেমন আমাদের Cartoons for Equality—এটা আমরা ইউএন উইমেনের সাথে মিলে করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিল্পীরা এসে নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে এমন সব কার্টুন বানিয়েছে যে দেখলে মনে হয়, “হ্যাঁ, এটা তো আমাদের সমাজের কথাই বলছে!” হাসির মধ্যে দিয়ে গভীর বার্তা—এটাই আমাদের স্টাইল।করোনার সময়টা মনে আছে? সবাই ঘরে বন্দি। তখন আমরা করলাম Fight Against Corona চ্যালেঞ্জ। দেশের কত শিল্পী যোগ দিল! মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—এসব নিয়ে মজার মজার কার্টুন। মানুষ হাসতে হাসতে সচেতন হয়ে গেল। সত্যিই অনেক ভালো লেগেছিল সেই সময়টা।তারপর দেশি ক্যারেক্টার ডিজাইন চ্যালেঞ্জ (DCDC)—এটা আমার খুব প্রিয়। এখানে শিল্পীরা আমাদের বাংলাদেশি সংস্কৃতি, গ্রামের মানুষ, শহরের জীবন, ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একদম অরিজিনাল চরিত্র বানায়। দেখলে গর্ব হয়—এ তো আমাদেরই গল্প, আমাদেরই মানুষ!আর গ্যান-টুন ক্যারিকেচার চ্যালেঞ্জ—এটা তো পুরা মজার জায়গা! সেলেব্রিটি, তারকাদের নিয়ে এমন ক্যারিকেচার যে হাসতে হাসতে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে। সবাই মিলে একটা হাসির উৎসব হয়ে যায়।আমরা এসব করে আসলে চাই শিল্পীরা তাদের কণ্ঠটা তুলে ধরুক, কমিউনিটি একসাথে হোক, আর গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো সবার কাছে পৌঁছে যাক।অনলাইনে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয়, শেয়ার করে—একটা ছোট কার্টুন থেকে বড় পরিবর্তন শুরু হয়।

ইভেন্ট

২০২২ সালে আমারা বড় করে আয়োজন করি ‘কার্টুন পিপল ফেস্টিভ্যাল’—তিন দিনের একটা উৎসব যেখানে কমিকস প্রেমীরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে নতুন বই লঞ্চ, প্রদর্শনী আর ওয়ার্কশপ উপভোগ করেছে।‘কার্টুনস ফর ইকুয়ালিটি’ ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়েছিল নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বাড়াতে—UN Women Bangladesh আর বহ্নিশিখা-র সাথে পার্টনারশিপে। প্রথমবার থেকেই শত শত শিল্পী অংশ নিয়েছেন, তাদের কার্টুন আর ইলাস্ট্রেশন দিয়ে সমাজের আয়না ধরেছেন। এটা শুধু প্রদর্শনী নয়, একটা আন্দোলন—যেখানে ছবির ভাষায় আমরা বলি, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।‘গার্লস ডু কমিক্স’ অ্যান্থলজি সিরিজটা আরেকটা প্রিয় সন্তান। এটা শুরু হয়েছিল নারী শিল্পীদের গল্পকে মূলধারায় আনতে—Adhunika Foundation আর EMK Center-এর সাপোর্টে। দুই খণ্ডের এই সিরিজে বাংলাদেশি নারীদের পরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন—সব এসেছে জীবন্ত হয়ে। আমরা দেখেছি কীভাবে এটা নতুন নারী শিল্পীদের সাহস জুগিয়েছে।নতুন-পুরনো সবাই একসঙ্গে বসে আঁকি, শিখি, হাসি। আমরা নিজেদের কমিকস বানাই, নিজেদের গল্প তুলে ধরি, আর সবসময় চেষ্টা করি যেন আগামী প্রজন্মের শিল্পীরা যেন অনুপ্রেরণা পায়।

You Might Like